প্রকাশিত: ০৬ মার্চ ২০২৬
বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ১
নিজস্ব প্রতিবেদক .
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শাওন হত্যা মামলার বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদী পক্ষের লোকজন বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মহজমপুর উত্তর কাজিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের নারীসহ ৮জন আহত হয়েছে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে বিদেশী পিস্তল, ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ ফারুন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেয়। এদিকে বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় হত্যা মামলার বাদী মোতালেবের মা সালেহা বেগম বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহজমপুর উত্তর কাজিপাড়া এলাকার ইসরাফিলের সঙ্গে মোতালেব মিয়ার জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ২৮ আগষ্ট দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হলেও শাওন নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোতালেব মিয়া বাদি হয়ে ইসরাফিলকে প্রধান আসামী করে ২১ জনের নামে সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী আসামীরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসলে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসামী পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে মোতালেবের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় সালেহা বেগম, খুকি আক্তার, জুই মনি, মোতালেব মিয়া, আয়নাল হক, শফিকুল ইসলামসহ ৮জন আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
শাওন হত্যা মামলার বাদি মোতালেব হোসেন জানান, তার ভাইকে ইসরাফিলের লোকজন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। আসামীরা আদালত থেকে জামিনে এসে তাদের ওপর হামলা করে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে।
আসামী পক্ষের গহন আলী জানান, মোতালেব হোসেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে তাদের গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে সন্ত্রাসীদের একজনকে পিস্তলসহ গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়। তবে অগ্নি সংযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহিববুল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা একজন সন্ত্রাসীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়। তার কাছ থেকে পিস্তল, ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ পাহাড়ায় ঢামেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনা মামলা প্রক্রিয়াধীন।