আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁওয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের টেঁটাবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাসেল ও আব্দুল হামিদ পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র টেঁটা, দা, রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড, ইটপাটকেল ও লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় ৭-৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আক্তার হোসেন (৫৪), নূরুল হক (৫০), ফারুক হোসেন (৪০), রোকসানা বেগম (৩০), তাসলিমা বেগম (৪০), কাউসার মিয়া (৩২), রাবেয়া বেগম (২৮)সহ ১০জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে টেঁটাবিদ্ধ আক্তার হোসেন ও নুরুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানার ওসি মোঃ মহিববুল্লাহর নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র দুই পক্ষের লোকজন গত ২১শে জানুয়ারী মসজিদের মাইকে ঘোষান দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
রাসেল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খাঁসেরগাঁও গ্রামের রাজু মিয়া সকালে পাঁচআনি বাজারে গেলে হামিদের লোকজন একা পেয়ে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে তাদের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে । এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
অপর পক্ষের আব্দুল হামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহিববুল্লাহ বলেন, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশ পাহাড়ায় রয়েছে। তিনি আরো জানান, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।